অনেকেই হঠাৎ ত্বকে চুলকানি, লালচে দাগ, ফুসকুড়ি, চোখ বা মুখ ফুলে যাওয়া কিংবা শ্বাস নিতে অস্বস্তি অনুভব করলে বিষয়টিকে সাধারণ সমস্যা মনে করেন। আসলে অ্যালার্জির প্রতিক্রিয়া বিভিন্নভাবে প্রকাশ পেতে পারে এবং সবার ক্ষেত্রে একই লক্ষণ দেখা যায় না। খাবার, ওষুধ, ধুলাবালি, পরাগরেণু, পোকামাকড়ের কামড় বা অন্য কোনো অ্যালার্জেনের সংস্পর্শে এমন প্রতিক্রিয়া হতে পারে।
রক্তে এলার্জির লক্ষণ বলতে সাধারণভাবে রক্ত পরীক্ষায় অ্যালার্জির সঙ্গে সম্পর্কিত কিছু পরিবর্তন বা শরীরে অ্যালার্জিক প্রতিক্রিয়ার উপসর্গ বোঝানো হয়। রক্ত পরীক্ষায় ইওসিনোফিলের মাত্রা বা নির্দিষ্ট IgE অ্যান্টিবডি পরীক্ষা করা হতে পারে, তবে শুধু এসব ফলাফল দেখে নিশ্চিতভাবে অ্যালার্জি নির্ণয় করা যায় না। চিকিৎসক রোগীর উপসর্গ, শারীরিক পরীক্ষা এবং প্রয়োজনীয় পরীক্ষার ফল একসঙ্গে বিবেচনা করেন।
যদি বারবার চুলকানি, হাঁচি, নাক দিয়ে পানি পড়া, ত্বকের ফুসকুড়ি, খাবারের পর অস্বস্তি বা অন্য কোনো পুনরাবৃত্ত সমস্যা দেখা দেয়, তাহলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া ভালো। নিজের মতো করে অ্যান্টিহিস্টামিন বা অন্য ওষুধ দীর্ঘদিন ব্যবহার না করাই নিরাপদ।
বিশেষ করে ঠোঁট, জিহ্বা বা গলা দ্রুত ফুলে যাওয়া, শ্বাসকষ্ট, মাথা ঘোরা বা অজ্ঞান হওয়ার মতো লক্ষণ দেখা দিলে এটি গুরুতর অ্যালার্জিক প্রতিক্রিয়ার ইঙ্গিত হতে পারে। এমন অবস্থায় দেরি না করে জরুরি চিকিৎসা নেওয়া উচিত।
অ্যালার্জির সম্ভাব্য কারণ শনাক্ত করতে কখন উপসর্গ শুরু হয়, কী খাওয়া হয়েছিল এবং কোন পরিবেশে সমস্যা বাড়ে—এসব তথ্য লিখে রাখলে চিকিৎসকের মূল্যায়নে সাহায্য হয় আরও সহজে।